আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার জোরে অনেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও দলীয় নেতারা বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল ও ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা অনেক সময় নামমাত্র মূল্য দিয়ে কিংবা জোর করে সাধারণ মানুষের জমি লিখিয়ে নেন।
সরকার পতনের পর এসব নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁদের অনেকে নিজেদের নামে কিংবা বেনামে কেনা জমিগুলো গোপনে বিক্রি করে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায়, বিশেষ করে রাজউক-পূর্বাচল, রূপগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভার অঞ্চলে এ ধরনের জমি বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানে।
সাবেক রূপগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০টির মতো প্লট বেনামে কিনেছিলেন এবং কিছু প্লট হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র দামে দখল করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২ মার্চ তিনি একটি পাঁচ কাঠার প্লট বিক্রি করে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ রকম আরও অনেক নেতা, যেমন মারফত আলী, শাহীন মালুম, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, অলিউর রহমান ও যুবলীগ নেতা যাকারিয়াসহ অনেকে পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় জমি ও প্লট বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্র জানায়, গত ৯ মাসে পূর্বাচলে প্লট বিক্রির পরিমাণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অধিকাংশ রেজিস্ট্রেশন কমিশনে হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত মালিকানার তথ্য গোপন থাকে।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা অলিউল ইসলাম অলি নিজের ও আত্মীয়স্বজনের নামে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ৬৩টি প্লট এবং প্রায় ১২৬ কোটি টাকার সম্পত্তি অর্জন করেছেন। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে অলি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, পুলিশের বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, যিনি ‘ডিবি মনিরুল’ নামে পরিচিত, গাজীপুরে গোপনে ৯ বিঘা জমি বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী, শ্যালকের নামে পূর্বাচলে অনেক জমি ও প্লট রয়েছে। সবকিছু পরিচালনা করছেন তাঁর বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার আ. মোমেন। জমি বিক্রির টাকাও তাঁর মাধ্যমেই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্বাচলের প্রকল্পের প্লট আদিবাসী ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনরাই প্লট পেয়েছেন। অনেকেই কমিশনের মাধ্যমে গোপনে এসব প্লট বিক্রি করে দিচ্ছেন।







