অস্ট্রেলিয়ার ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রেফারেন্স চুক্তি এবং হাউ-টু-ভোট কার্ড। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে, ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন একটি নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন—মার্জিনাল বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া অন্তত ১০টি আসনে কোয়ালিশনকে দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা হাউ-টু-ভোট কার্ড পুনর্মুদ্রণ করেছেন।
এই পদক্ষেপটি এসেছে ক্লাইভ পামারের নতুন দল ট্রাম্পেট অফ প্যাট্রিয়টস-এর বিতর্কিত প্রেফারেন্স কৌশলের পর। তারা কিছু আসনে লেবার পার্টি ও টিল প্রার্থীদের কোয়ালিশনের আগে রাখতে শুরু করেছে, যা হ্যানসনের মতে “নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর এক ধরনের খেলাধুলা”। হ্যানসন বলেন, “ক্লাইভ পামার কখনই নীতিগত রাজনীতিতে আসেননি, বরং তার নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্যই এসব কৌশল নিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, মেলবোর্নের ম্যাকনামারা আসনেও শুরু হয়েছে এক অনন্য রাজনীতির খেলা। লেবার এমপি জোশ বার্নস ঘোষণা করেছেন যে তিনি এবারের নির্বাচনে ‘খোলা টিকিট’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—অর্থাৎ, তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রেফারেন্স নির্দেশনা থাকবে না। এই পদক্ষেপ গ্রিনস পার্টিকে ক্ষুব্ধ করেছে, কারণ তারা মনে করেন যে এটি তাদের ভোট ভাগ করে কোয়ালিশনকে জয়ী হতে সাহায্য করবে।
ABC-র বিশ্লেষক অ্যান্টনি গ্রিন জানিয়েছেন, হাউ-টু-ভোট কার্ডগুলো যদিও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না, তবু ভোটারদের একটি বড় অংশ—বিশেষ করে অঙ্গীকারবদ্ধ পার্টির সমর্থকরা—এসব কার্ড অনুসরণ করেন। তার মতে, প্রধান দলের প্রায় ৪০% ভোটার এবং ছোট দলের ২৫%-এর মতো ভোটার দলীয় নির্দেশনায় প্রভাবিত হন।
এই মুহূর্তে নির্বাচন কেবল নীতি আর প্রচারণার যুদ্ধ নয়—এটি স্ট্র্যাটেজি এবং কৌশলের সূক্ষ্ম যুদ্ধ, যেখানে প্রেফারেন্স কার্ডই হয়ে উঠতে পারে আসল কিংমেকার। বিশেষ করে মার্জিনাল আসনগুলিতে, যেখানে ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে মাত্র কয়েকশ ভোটের ব্যবধানে, সেখানেই এই চুক্তিগুলোর ভূমিকা হয়ে উঠছে নির্ণায়ক।







