Home পলিসি বিটালু গ্যাস প্রকল্পে নতুন অংশীদার খুঁজছে ট্যাম্বোরান

বিটালু গ্যাস প্রকল্পে নতুন অংশীদার খুঁজছে ট্যাম্বোরান

26
0

অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির বিশাল বিটালু বেসিন গ্যাস প্রকল্পের উন্নয়ন আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে বড় জ্বালানি কোম্পানি ও এলএনজি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করছে ট্যাম্বোরান রিসোর্সেস।

কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস গ্রুপ, এশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ক্রেতা এবং অস্ট্রেলিয়ায় কার্যরত প্রতিষ্ঠিত এলএনজি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বৃহৎ পরিসরে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় খতিয়ে দেখছে ট্যাম্বোরান।

প্রধান নির্বাহী টড অ্যাবট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সহবিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেল গ্যাস শিল্পে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে অ্যাবটের। ট্যাম্বোরান সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত বিটালু গ্যাস সম্পদকে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প থেকে বড় আকারের উৎপাদনশীল গ্যাস বেসিনে রূপান্তরের চেষ্টা করছে।

এই অংশীদার খোঁজার উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্যাম্বোরান তার Shenandoah South Pilot Project থেকে প্রথম গ্যাস কমিশনিং শুরু করেছে।

প্রকল্পটির গ্যাস নতুন চালু হওয়া Sturt Plateau Compression Facility-এর মাধ্যমে নর্দার্ন টেরিটরির পাইপলাইন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করছে। এর ফলে বিটালু বেসিন থেকে উৎপাদিত গ্যাস ডারউইনসহ টেরিটরির বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে সরবরাহের পথ তৈরি হয়েছে।

পাইলট প্রকল্প থেকে দৈনিক মোট প্রায় ৪০ টেরাজুল গ্যাস উৎপাদনের জন্য নর্দার্ন টেরিটরি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে ট্যাম্বোরান। এই ব্যবস্থা কোম্পানিটিকে একটি প্রাথমিক বাণিজ্যিক বাজার দিয়েছে, একই সঙ্গে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে ট্যাম্বোরানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল শুধু স্থানীয় নর্দার্ন টেরিটরি বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে একাধিক বাজারে গ্যাস বিক্রির পরিকল্পনা করছে।

নর্দার্ন টেরিটরির গ্রাহকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে কোম্পানিটি।

সাম্প্রতিক বিনিয়োগসংক্রান্ত নথিতে এই তিনটি বাজারকেই বিটালু বেসিনের বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই সম্ভাবনার কারণেই বড় এলএনজি উৎপাদক এবং এশিয়ার ক্রেতারা ট্যাম্বোরানের পরবর্তী সম্প্রসারণ ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

একজন কৌশলগত বিনিয়োগকারী নতুন কূপ খনন, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ সরবরাহ করতে পারে। বিনিময়ে তারা ভবিষ্যতের গ্যাস উৎপাদনের একটি অংশ পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে পারে।

অন্যদিকে কোনো এলএনজি ক্রেতা প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস পেতে পারে। এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

বিটালু বেসিনের বিপুল গ্যাস সম্পদ এবং অনুভূমিক ড্রিলিংয়ে পাওয়া ফলাফলের কারণে এটিকে ক্রমেই উত্তর আমেরিকার বড় শেল গ্যাস উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

ট্যাম্বোরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শেল খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োগ করে তারা খনন দক্ষতা বাড়ানো এবং উন্নয়ন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে।

কোম্পানিটির ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অয়েলফিল্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান Helmerich & Payne, Liberty Energy এবং Baker Hughes-এর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান ট্যাম্বোরানের কার্যক্রমে ড্রিলিং, কূপ সম্পন্নকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে।

উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ ভাগাভাগি করার জন্য কোম্পানিটি farm-out চুক্তি এবং যৌথ উদ্যোগকেও ব্যবহার করছে।

এর আগে Daly Waters Energy ও INPEX-এর সঙ্গে করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে কূপ উন্নয়নের অর্থায়ন পাওয়া গেছে। ট্যাম্বোরান এসব চুক্তিকে তার মূল বিটালু সম্পদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার প্রতি তৃতীয় পক্ষের আস্থার প্রমাণ হিসেবেও তুলে ধরেছে।

ফলে নতুন অংশীদার খোঁজার বর্তমান উদ্যোগটি মূলত কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। এর লক্ষ্য হলো ট্যাম্বোরান যেন প্রকল্প সম্প্রসারণের পুরো আর্থিক বোঝা এককভাবে বহন না করে।

তবে বিটালু বেসিনে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে অবকাঠামো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

দূরবর্তী এই অঞ্চলে এমন পাইপলাইন ও গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা প্রয়োজন হবে, যা উৎপাদিত গ্যাসকে ডারউইন, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল কিংবা এলএনজি রপ্তানি স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন পাইপলাইন কোম্পানি বিটালু থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠিত জ্বালানি বাজারে বড় পরিমাণ গ্যাস পরিবহনের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো পরিকল্পনার ধারণা প্রকাশ করেছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, বিটালুতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়লে পাইপলাইন ও অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

বিটালু বেসিনের বাণিজ্যিক উন্নয়নকে ঘিরে পরিবেশগত বিতর্কও বাড়ছে।

বিশেষ করে হাইড্রোলিক ফ্র্যাকচারিং বা ফ্র্যাকিংয়ের ব্যবহার এবং নতুন একটি বৃহৎ গ্যাস অঞ্চল উন্নয়নের ফলে সম্ভাব্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

নর্দার্ন টেরিটরিতে ফ্র্যাকিং সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এখনো প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় কমিউনিটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

ট্যাম্বোরানের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো প্রমাণ করা যে পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক গ্যাস উৎপাদনকে ভবিষ্যতে অনেক বড় একটি উৎপাদন ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

নর্দার্ন টেরিটরির পাইপলাইন নেটওয়ার্কে ইতোমধ্যে প্রথম গ্যাস প্রবাহ শুরু হওয়া এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার পর কোম্পানিটি এখন শুধু উৎপাদন শুরু করার পর্যায় থেকে সরে এসে কত দ্রুত এবং কোন কোন অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে বিটালু প্রকল্পের পরিসর বাড়ানো যাবে, সেই পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here