Home Melbourne BD বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ইসরাইলি ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ইসরাইলি ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

151
0

ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ইসরাইলি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণা ছড়ানোর কোনো জায়গা নেই। ঘৃণা নিয়ে কেউ এ দেশে ঢুকতে পারবে না।”

ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয় ইয়াহুদের অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্লাইটে ওঠার মাত্র তিন ঘণ্টা আগে। এর ফলে তিনি ইসরাইল থেকে আবুধাবি পর্যন্ত গেলেও সেখান থেকে মেলবোর্নগামী সংযোগকারী ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের জন্য কুখ্যাত ইয়াহুদ সম্প্রতি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি ইসলামকে “ঘৃণ্য মতাদর্শ” এবং “আক্রমণকারী ধর্ম” বলে উল্লেখ করেছিলেন। এসব মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলীয় সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশে প্রবেশে আগ্রহীদের অবশ্যই যথাযথ উদ্দেশ্যে এবং নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। কারও ভ্রমণ অনুমোদন তখনই বাতিল করা হবে, যখন তাদের উপস্থিতি জননিরাপত্তা বা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি তৈরি করে।”

স্যামি ইয়াহুদ যুক্তরাজ্যের নাগরিক হলেও বর্তমানে ইসরাইলের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তিনি মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ সংস্থা UNRWA-কে উপহাস করেছিলেন। এর আগেও তিনি ঘৃণা ছড়ানো কনটেন্টের কারণে বহুবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

ভিসা বাতিলের পর ইয়াহুদ দাবি করেন, “এটি সেন্সরশিপ ও স্বৈরতন্ত্রের নিদর্শন।” তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া সরকার এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে ইসরাইলি-আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট হিলেল ফুল্ড ও ডানপন্থী আইনপ্রণেতা সিমচা রথম্যানের ভিসা বাতিল করেছিল। তবে স্যামি ইয়াহুদকে যে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেই ‘অস্ট্রেলিয়ান জিউিশ অ্যাসোসিয়েশন’ সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি জানুয়ারির শুরুতে সিডনির বন্ডি বিচে একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হয়। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধে আইন আরও কঠোর করে। এই ঘটনায় সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here