Home Health বিনামূল্যে বিতরণের আড়ালে জাল টিকার ব্যবসা

বিনামূল্যে বিতরণের আড়ালে জাল টিকার ব্যবসা

কলকাতার কসবায় করোনা জাল টিকাকাণ্ডে নতুন মোড়। বিনামূল্যে করোনা টিকা দেওয়ার আড়ালে জাল ভ্যাকসিনের ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে কসবা টিকাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ভুয়া আইএস অফিসার দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে। তিনি একটি সংস্থায় চড়া মূল্যে কোভিড টিকা বিক্রি করেছেন। বিক্রিত টিকা আসল না জাল এ নিয়ে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ঘটনার তদন্তে শুক্রবার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

প্রতারণা, ব্যাংক জালিয়াতি দমন এবং বিশেষ সেলের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১০ সদস্যর সিট গঠন করা হয়েছে লালবাজারের পক্ষ থেকে। তারা কসবা টিকাকাণ্ডের তদন্ত করবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র বলেন,‘শুধু কসবায় নয়, শহরের আরও বেশ কিছু জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের গোয়েন্দা শাখা বিষয়টির তদন্ত করছে। কোন ভ্যাকসিন কারা, কীভাবে দিয়েছে এমনকি কোথা থেকে সংগ্রহ করে পুরো বিষয় তদন্ত হবে’।

কলকাতার পৌরসভার এক নথিতে পাওয়া গেছে দেবাঞ্জন সরলা ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোফিনান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থাকে ১১৭ টি করোনা টিকা এক লাখ ১১ হাজার রুপিতে বিক্রি করে। ঐ টিকা জাল বলেই অনুমান করছে গোয়েন্দা। দেবাঞ্জন এরকম আর কোন সংস্থার কাছে টিকা বিক্রি করেছে কিনা তার তদন্ত হচ্ছে। বিনামূল্যে কোভিড টিকা বিতরণের নামে জাল ভ্যাকসিনের ব্যবসা শুরু করেছিলেন কিনা এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, দেবাঞ্জন তার অফিসের কর্মীদেরও টিকা দিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। কর্মীদের রাশিয়ার ‘স্পুটনিক’ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু টিকা নেওয়ার পরে এসএমএস বা প্রশংসাপত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ কর্মীদের। কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে স্পুটনিক দেওয়া হলেও তা সংখ্যায় অল্প। তাহলে এই টিকা কোথায় পেল দেবাঞ্জন? টিকাগুলোকে জাল বলেই ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। পুলিশি জেরায় দেবাঞ্জন জানিয়েছে, ২৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা খরচ করে এই প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ছিলেন তিনি। করোনা মহামারির শুরুতে মাস্ক,পিপিই, কিট,স্যানিটাইজারের ব্যবসা শুরু করেন অভিযুক্ত।

কোভিশিল্ড দেওয়া হবে বলে কসবার ক্যাম্প থেকে অ্যামিকাসিন অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন সাধারণ মানুষকে দিয়েছিলেন দেবাঞ্জন। এদিকে সঞ্জয় মুকিম নামে এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন কলকাতার পৌরসভার যুগ্ম কমিশনার পরিচয় দিয়ে ওষুধ কিনতেন তিনি। অ্যামিকাসিন অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন। ব্যবসায়ীকে এখনও পুরো অর্থ পরিশোধ করেননি। দেবাঞ্জনের অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে কোভিশিল্ডের ভুয়া লেভেল। পাওয়া গিয়েছে ভ্যাকসিনের ভায়াল। উদ্ধার হওয়া ভায়ালে কোভিশিল্ডের লেবেলের নীচে অন্য লেবেল পাওয়া গেছে। কোভিশিল্ডের লেবেল তুলতেই অ্যামিকাসিনের লেবেলের সন্ধান পান ফরেনসিক টিম।

ভুয়া টিকা দেওয়ার জন্য ১৩ জনের একটি টিম তৈরি করেছিলেন অভিযুক্ত দেবাঞ্জন। তাদের দিয়েই বিভিন্ন ক্যাম্পে টিকাকরণের কাজ করাতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ওই টিমের সদস্যদের চিকিৎসক এবং স্বাস্থকর্মী ছিলেন কিনা তার তদন্তও শুরু করেছে প্রশাসন।

নিজের আসল পরিচয় গোপন করে আইএস অফিসার সেজে নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বেড়ান। কলকাতা পৌরসভার বিশেষ কমিশনারের সই জাল করে কয়েকটি অ্যাকাউন্টও খুলেছে বেসরকারি ব্যাংকে। এছাড়াও নানা জালিয়াতি ও অনৈতিক কাজের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে দেবাঞ্জন দেবের সহযোগী শান্তনু মান্নাকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি কসবার ভুয়া টিকাকরণের দায়িত্বে ছিলেন। দেবাঞ্জনের গুদামে তল্লাশি করে বেশ কয়েকটি ভায়াল পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here