মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চহারে আমদানি শুল্ক আরোপের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান এবং এর প্রধান সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই দেশগুলো—জাপান, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া—বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য কাঠামোর উপর গুরুত্বারোপ করেছে।
গত রবিবার ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা একত্রিত হন। কিয়োডো নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন, যা ছিল একটি মুক্ত, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি না উল্লেখ করেই তারা তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্ধিত বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা অর্থনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং অঞ্চলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পুঁজি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় ধরনের হুমকি।
গত মাসে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চীন ছাড়া বেশিরভাগ দেশকে ৯০ দিনের জন্য শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও, চীনের ওপর ২৪৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এই শুল্ক নীতির প্রভাবে আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম যথাক্রমে ৪৯% এবং ৪৬% মার্কিন শুল্কের সম্মুখীন হয়েছে, এছাড়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও ২৪% এবং ২৫% শুল্কের আওতায় পড়েছে।
এবং চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে আমদানিকৃত অধিকাংশ পণ্যের ওপর ১২৫% পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে। এর ফলে, একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।







