বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বৈরুতে বিক্ষোভ

ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বৈরুতের বন্দরে গত মঙ্গলবার বিশাল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণে প্রায় দেড় শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। নিখোঁজ অনেকে।

বিস্ফোরণের জন্য সরকারের অবহেলাকে দায়ী করছে সাধারণ মানুষ। এই ক্ষোভ বিক্ষোভে রূপ নেয়।

বৈরুতে দেশটির পার্লামেন্টের কাছে গতকাল বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিক্ষোভ সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ছবি: রয়টার্স

বিক্ষোভ সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ছবি: রয়টার্সবৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে। দেশটির কর্মকর্তারা এর মধ্যে জানিয়েছেন, কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে বছরের পর বছর ওই বন্দরে ভেড়ানো একটি রুশ জাহাজই এই বিস্ফোরণের কারণ। ওই রাসায়নিক পদার্থ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

তদন্তের অংশ হিসেবে বন্দরের ১৬ ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছিল, বিস্ফোরণের ঘটনায় বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে দেশটির দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের একজন এমপি, একজন রাষ্ট্রদূত।

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। ছবি: রয়টার্স

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। ছবি: রয়টার্সগতকাল ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বৈরুত পরিদর্শন করেন। এই বিস্ফোরণের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন তিনি।

এমন ভয়ংকর বিস্ফোরণ লেবাননের মানুষ আগে কখনো দেখেনি। বিস্ফোরণে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো এলাকা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। তিন লাখের বেশি মানুষ ঘর হারিয়েছে। হাসপাতালগুলো আহত লোকে ভরে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে বৈরুত শহর ও তার উপকণ্ঠের বাসিন্দারা অসহায় হয়ে পড়েছে।

Add Comment