ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে আলোচিত ৩,৫০০ কোটি রুপির মদ কেলেঙ্কারির মামলায় রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (ওয়াইএসআরসিপি) প্রধান ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবুও সিআইডির তদন্তে তার ঘুষ গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে রাজ্য সরকার মদের পাইকারি ও খুচরা বিক্রি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যে নতুন নীতি চালু করে, সেই নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিআইডির জমা দেওয়া চার্জশিট অনুযায়ী, ওয়াইএসআরসিপির তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা কেসিরেড্ডি রাজশেখর রেড্ডি ভুয়া কোম্পানি খুলে মদের কমিশনের অর্থ পাচার করেন এবং ওই টাকা দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই অর্থের একাংশ নির্বাচনে খরচ ও একাংশ বিদেশে সম্পদ ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়।
সিআইডির অভিযোগে বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় মদ বিক্রির ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং রাজ্য বেভারেজ কর্পোরেশনে অনুগতদের নিয়োগ দিয়ে পছন্দের কোম্পানি থেকে মোটা কমিশন নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় আছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য ভি বিজয়সাই রেড্ডি ও লোকসভার এমপি পি ভি মিধুন রেড্ডি, যাদের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছায় জগন মোহন রেড্ডির কাছে।
ওয়াইএসআরসিপি এই মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। দলের মুখপাত্র সাজ্জালা রামকৃষ্ণ রেড্ডি অভিযোগ করেন, এই মামলা চাপের মুখে নেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গঠিত একটি ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য বিরোধী নেতাদের সম্মানহানি করা। তিনি বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকারের সময় ঘটে যাওয়া দুর্নীতির ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির চার্জশিট এখনো আদালতে গৃহীত হয়নি। তবে এ ঘটনা অন্ধ্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।







