Home বাংলাদেশ National ভিউয়ের লোভে বেপরোয়া হয়ে উঠছে ইউটিউবাররা, যার ফলে উদ্ধার অভিযান ও সংবাদ...

ভিউয়ের লোভে বেপরোয়া হয়ে উঠছে ইউটিউবাররা, যার ফলে উদ্ধার অভিযান ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

192
0

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, মনিটাইজেশনের সুবিধা থাকায় অনেকেই এখন এসব প্ল্যাটফর্মে পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতা হয়ে উঠছেন। অনেকের জন্য এটি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তবে এর পাশাপাশি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে—‘ভিউয়ের নেশা’। এই প্রবণতায় কিছু ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা দায়িত্বহীন ও বেপরোয়া আচরণ করে বারবার সমালোচনার জন্ম দিচ্ছেন।

তারা ব্যক্তি জীবনের একান্ত মুহূর্তগুলো নির্দ্বিধায় প্রকাশ করছেন এবং দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে পেশাদার সাংবাদিকদের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা একে এখন গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের এমন আচরণ ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। তারা ও কিছু নামমাত্র গণমাধ্যমের কর্মী এবং উৎসুক জনতার ভিড়ে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয় এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয়, যাতে কিছু পেশাদার সাংবাদিকও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দুর্ঘটনায় আহত বা মৃতদের ছবি-ভিডিও প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, ফলে প্রকৃত সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহে মূলধারার গণমাধ্যম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, যেকোনো বড় সংকটে ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে, এবং অনেক সময় সংবেদনশীল ঘটনাকেও বিনোদনের কনটেন্ট বানিয়ে তোলেন।

তারা শিশু বা নির্যাতনের শিকার নারীর ভিডিও ধারণ করে প্রচার করছেন, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন। দুর্ঘটনার সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানেও চলে যাচ্ছেন ভিডিও তুলতে।

একাধিক ঘটনায় তাদের এই বেপরোয়া আচরণ বিরক্তি ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পেশাদার সংবাদকর্মীদের জন্য।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকাংশই জানেন না সংবাদ পরিবেশনের নীতিমালা, ভিকটিমের প্রতি আচরণ বা বক্তব্য প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কনটেন্ট নির্মাণ সহজ হয়েছে ঠিকই, তবে নীতি-নৈতিকতার অভাবে এই মাধ্যম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম মনে করেন, নিজেদের ডিজিটাল মিডিয়া গড়ে তুলতে গিয়ে ইউটিউবাররা পেশাদার সাংবাদিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন, এবং কর্তৃপক্ষকেই এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাতিল সিরাজ বলেন, এত বেশি অপ্রশিক্ষিত ‘সাংবাদিক’ তৈরি হয়েছে যে, অনেক সময় বুঝে ওঠা যায় না কারা পেশাদার।

সমস্যার সমাধানে আইন নয়, বরং সচেতনতা ও নৈতিকতার শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসাইন বকুল। তিনি মনে করেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।

সরকারও বিষয়টি নজরে এনেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটিউবারদের সতর্ক করে বলেন, তারা যদি সংবাদ সংগ্রহের নিয়ম না মানেন, তবে নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজন হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here