Home বাংলাদেশ National ময়মনসিংহে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থান—আট আসনে চাপে দলীয় মনোনীতরা

ময়মনসিংহে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থান—আট আসনে চাপে দলীয় মনোনীতরা

104
0

শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প ও লোকসংস্কৃতির কেন্দ্র ময়মনসিংহ এবার জাতীয় নির্বাচনে বাড়তি উত্তাপের অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই দলীয় প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের নিজ দলের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কোথাও দ্বিমুখী, কোথাও ত্রিমুখী, এমনকি কিছু আসনে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


ফুলবাড়িয়া: দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ

ময়মনসিংহ–৬ (ফুলবাড়িয়া) আসন এবার সবচেয়ে আলোচনায়। এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। সারাদেশে এটিই একমাত্র আসন যেখানে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ হয়ে ফুলবাড়িয়া পৌঁছে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে এখন ‘ঘোড়া’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রচারণাই বেশি নজর কাড়ছে। সিএনজিচালক থেকে শুরু করে স্থানীয়দের মুখে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার কথা কমই শোনা যায়।

৭০ বছর বয়সী মুচি দিনেন্দ্র ঋষি বলেন, বিপদের সময় যিনি পাশে থাকেন, তাকেই তিনি ভোট দেবেন।

কৃষিভিত্তিক এই এলাকায় মাঠে দেখা যায় কৃষকদের ব্যস্ততা। বালিয়ান ইউনিয়নের কৃষক সোহাগ আলম মনে করেন, দল এবার যোগ্য প্রার্থী দিতে পারেনি। তিনি দলীয় প্রতীকেই ভোট দেবেন; তবে ঘোড়া ও ফুটবল প্রতীকের জনপ্রিয়তা বেশি বলেও মন্তব্য করেন।

প্রার্থীদের অবস্থা

  • বিএনপি প্রার্থী: আখতারুল আলম (ধানের শীষ)
  • বিএনপি বিদ্রোহী: আখতার সুলতানা (ফুটবল), যিনি প্রার্থী আখতারুল আলমের চাচি
  • জামায়াত প্রার্থী: কামরুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা)
  • জামায়াত বিদ্রোহী: জসিম উদ্দিন (ঘোড়া)

চারজন শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় এখানে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩–এর পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি দুবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী চারবার জয় পেয়েছেন।

অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার খবর নেই।


ত্রিশাল: তিন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তাপ

ময়মনসিংহ–৭ (ত্রিশাল) আসনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিনজনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা:

  • বিএনপি: মাহবুবুর রহমান লিটন (ধানের শীষ)
  • বিদ্রোহী প্রার্থী: আনোয়ার সাদাত (কাপ–পিরিচ), প্রয়াত বিএনপি এমপি আবদুল খালেকের ছেলে
  • জামায়াত: আসাদুজ্জামান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা)

নজরুল স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকায় ভোটাররা মনে করছেন, প্রার্থীদের আঞ্চলিক পরিচয় ও পারিবারিক প্রভাব ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, ধানের শীষ ও কাপ-পিরিচের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধা নিতে পারেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীও।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলামও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ত্রিশালে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here