আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শুরুর আগেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় চরম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল। রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির চুক্তি করেও এমন সিদ্ধান্তে দেশের সাবেক অধিনায়ক ও কোচরা বিষয়টিকে অপমানজনক ও লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে বিপিএল খেলতে সিলেটে অবস্থানরত শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার ও কোচদের মধ্যে মোস্তাফিজ ইস্যু প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’-এর প্রধান কোচ ও বিসিবির সাবেক পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, “রাজনীতি বা ধর্মের অজুহাতে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া শুধু তার জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য লজ্জার। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে একটি দল কীভাবে ভারতের মাটিতে খেলতে যাবে?” তিনি আরও বলেন, বিসিবি ও সরকারের এখনই আইসিসিকে বিষয়টি জানানো উচিত।
সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “৯ কোটির বিনিময়ে কেনার পর হঠাৎ করে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া সত্যিই অবাক করার মতো। মোস্তাফিজ ২০১৬ সাল থেকেই আইপিএলে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে আসছে, তবুও কখনো সে সম্মান পায়নি। ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান ‘রাজশাহী ওয়ারিয়র্স’-এর ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ। তিনি বলেন, “এটি শুধু মোস্তাফিজ নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটকেই অপমান করা হয়েছে। যদি নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ভারত কীভাবে নিরাপত্তা দেবে? এমন হলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে না হয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা উচিত।”
বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মতো বাংলাদেশিরাও কি এবার আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে ধীরে ধীরে উপেক্ষিত হয়ে পড়বেন? মোস্তাফিজের বাদ পড়াকে কেবল অর্থের ক্ষতি নয়, আত্মমর্যাদার বিষয় হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। ফলে বিসিসিআই ও আইপিএলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ক্রিকেটমহলে এখন ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।







