যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হয়ে চরবৃত্তির কথা স্বীকার করলেন সিঙ্গাপুরি

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের চর হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যক্তি। তাঁর নাম জুন ওয়ে ইয়েও। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জুন ওয়ে ইয়েও তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শ কেন্দ্র থেকে চীনের গোয়েন্দাদের তথ্য সরবরাহ করতেন।

বিবিসি অনলাইনের খবরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, চীনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক লুকানোর অভিযোগে চীনা এক গবেষককে আটক করা হয়েছে।

এএফপির খবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে জুন ওয়ে ইয়েও বিদেশি চর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি ডিকসন ইয়েও নামেও পরিচিত।

ইয়েও ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা, উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তার তথ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান তথ্য তিনি চীনের গোয়েন্দাদের জন্য সরবরাহ করতেন। ইয়েও এ রকম প্রতিবেদন লেখার জন্য বেশ কয়েকজনকে অর্থ প্রদান করেছেন।

আদালতে দেওয়া বিবৃতিতে ইয়েও বলেন, চীনের গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করার বিষয়ে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি। তিনি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বহুবার দেখা করেছেন। চীন ভ্রমণের সময় তাঁকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো।

আদালতে জানানো হয়, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা করার সময় থেকে ইয়েও চীনের গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করতেন। বিশ্ব বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ করতে তিনি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

মার্কিন আদালত বলেন, ইয়েও চীনের গোয়েন্দা সংস্থার কথামতো ভুয়া পরামর্শ কেন্দ্র খুলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডিমারস এক বিবৃতিতে জানান, ইয়েও চাকরি–বাকরিবিষয়ক সাইটগুলো ব্যবহার করে ভুয়া পরামর্শ কেন্দ্র খুলেছিলেন। তিনি চীনা সরকারের প্রতি আগ্রহী আমেরিকানদের প্ররোচিত করতেন। মার্কিন সমাজের উদারতার সুযোগ কীভাবে চীন সরকার নেয়, তার একটি উদাহরণ এটি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার চেংদুতে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয় চীন। যুক্তরাষ্ট্র হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করার পাল্টা জবাবে এই নির্দেশ দেয় চীন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, চীন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করছিল বলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এর জবাবে বলেন, চীনবিরোধী মার্কিন মিথ্যাচারের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন জগাখিচুড়ি পদক্ষেপ।

গত বৃহস্পতিবার চীনের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযুক্ত চার চীনার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Add Comment