যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড তার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিন বছরের দায়িত্বকাল শেষে তিনি আগামী ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়বেন বলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার সরকার নিশ্চিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড নিউ ইয়র্কভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সভাপতি হিসেবে যোগদানের জন্য এ পদ ছাড়ছেন।
তবে তার পদত্যাগ ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্তব্যে রাডকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “আমি আপনাকে পছন্দ করি না।” উল্লেখ্য, রাড অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কিছু তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন, যখন ট্রাম্প ক্ষমতার বাইরে ছিলেন।
গত বছরের অক্টোবরে হোয়াইট হাউসে একটি মার্কিন-অস্ট্রেলিয়া বৈঠকের সময় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আলোচনায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাডের প্রতি অসন্তোষ জানান। এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল রাডের পদত্যাগের দাবি তোলে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, রাড প্রায় এক বছর আগে থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত পছন্দ। তিনি বলেন, “কেভিন রাডের কর্মসংস্কৃতি এমন যা আমি অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। তিনি অবিরাম পরিশ্রম করেছেন এবং এখন এমন একটি ভূমিকায় যাচ্ছেন, যেটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।”
প্রধানমন্ত্রী রাডের অবদানেরও প্রশংসা করেন, বিশেষ করে অকাস (AUKUS) চুক্তি বাস্তবায়নে তার ভূমিকা—যার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার আগে, রাড ট্রাম্পকে “ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রেসিডেন্ট”, “পশ্চিমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতক” এবং “গণতন্ত্রের জন্য হুমকি” বলেও আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর, রাড অনলাইনে দেওয়া এসব মন্তব্য মুছে ফেলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও রাডের মধ্যে এই প্রকাশ্য মতবিরোধ অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।







