Home বাংলাদেশ National রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থীর একাকী নির্বাচনযুদ্ধ—হাবিবা বেগমের সংগ্রামী প্রচারণা

রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থীর একাকী নির্বাচনযুদ্ধ—হাবিবা বেগমের সংগ্রামী প্রচারণা

109
0

রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগমের প্রচারণা যেন একক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ভাঙা ছাউনি-ঢাকা একটি অটোরিকশায় চড়ে তিনি ঘুরে বেড়ান ভোটের মাঠে। হুডে ঝুলে থাকা ছেঁড়া ঝালরের মতো তাঁর প্রচারণার দৃশ্যও অপার করুণ। যেখানে অন্যরা দলীয় শক্তিতে প্রচারে ব্যস্ত, সেখানে হাবিবাকে একাই হাতে ফুটবল প্রতীকের লিফলেট তুলে ভোট চাইতে দেখা যায়।

রোববার দুপুরের পর পবা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার ফেরতার মোড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। তিনিই এ নির্বাচনে রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থী।

রাজনীতিতে হাবিবার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে—ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও পরে মোহনপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখনই তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সংসারের দারিদ্র্য—যে চায়ের দোকান তাঁরা চালাতেন, চাঁদা না দেওয়ায় সেটিও এক বছর আগে ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

ছয় দিনের দেরিতে প্রতীক, তারই মধ্যে শুরু দুর্ভোগ

হাইকোর্টের আদেশে ছয় দিন পরে প্রতীক পেলেও প্রচারে নেমে পড়েন তিনি। প্রচার বাড়ানোর জন্য মোটরসাইকেলে বের হন স্বামী মাসুদ রানাকে সঙ্গে করে। কিন্তু হেলমেট না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাইক জব্দ করে। রাজশাহী পুলিশ সুপার অফিস থেকে ট্রাফিক অফিস—দু’দিকেই ছুটে তিনি মোটরসাইকেল ছাড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একা অটোরিকশায় প্রচার শুরু করতে হয় তাঁকে।

হাবিবার অভিযোগ—
“স্বতন্ত্র বলেই আমাদের ওপর বাড়তি চাপ। অন্য প্রার্থীদের যান চলাচলে বাধা নেই, কিন্তু আমার বাইকটি আটকে দেওয়া হলো।”

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

কাশিয়াডাঙ্গায় কথা হয় ঠিকাদার আকরাম আলী ও ব্যবসায়ী রজব আলীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, হাবিবার নাম তাঁরা জানেন এবং নিজের খরচেই তাঁরা ফুটবল প্রতীকের প্রচারে সহযোগিতা করছেন। প্রচার একটু আগে শুরু হলে আরও ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তারা।

দামকুড়া বাজারে দেখা যায়, অটোরিকশায় তাঁর প্রচারের অডিও বাজছে, আর হাবিবা বাজারে ঘুরে ঘুরে নারীদের বোঝাচ্ছেন। কেউ কেউ তাঁকে নিজের এলাকার ভোটার নন বলে বুঝিয়ে দিতে হয়। আরেকদল পথচারী তাঁকে চিনে হেসে প্রচারপত্র নেন।

তাঁর অটোরিকশাচালক জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত ৮০০ টাকায় গাড়ি ভাড়া নিয়েছেন হাবিবা।

শনিবার বিকেলেও তিনি মোটরসাইকেল ফেরত পাননি বলে জানান। ট্রাফিক কার্যালয় থেকে ফোন আসার কথা থাকলেও তা আসেনি।

পুরনো মামলার বোঝা ও একাকী প্রচারণা

পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর নামে ছয়টি মামলা হয়েছিল, যার কারণে সাতবার কারাগারেও যেতে হয়। তিনি দাবি করেন—সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা। তিনি কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

হাবিবা বলেন—
“যারা আমার সঙ্গে প্রচারে আসে, তাদেরই ‘আওয়ামী লীগার’ বলে চাপ দেওয়া হয়। সমর্থকেরা ঝামেলায় পড়তে পারে—এই ভয়েই আমি একাই প্রচারণা চালাচ্ছি।”

স্বল্প সম্পদ, একাকী সংগ্রাম আর প্রশাসনিক বাধার মাঝেও ফুটবল প্রতীক নিয়ে হাবিবা লড়ে যাচ্ছেন রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here