যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অভিজাত এজোয়ার রোডের কাছাকাছি একটি বহুতল বিলাসবহুল ভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই, ব্যবসায়ী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের খোঁজ মিলেছে। ধনাঢ্য আরব বাসিন্দাদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ওই ভবনের ‘ওয়েস্টমার্ক টাওয়ার’-এর এই ফ্ল্যাটটির মূল্য ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি হাউস ও ভূমি নিবন্ধন দলিল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৫ জুলাই ‘বিটকম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই অ্যাপার্টমেন্টটি ৯৯৯ বছরের ইজারা ভিত্তিতে ‘বার্কলে হোমস’ থেকে কিনে নেয়। কোম্পানিটির পরিচালক হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরী, যাঁরা উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই ফ্ল্যাটের ওপর ‘সেনক্যাপ লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনঃ মর্টগেজ চুক্তি হয়, যেখানে ফিক্সড ও ফ্লোটিং চার্জ আরোপ করা হয়েছে।
আনিসুজ্জামান বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই। তাঁদের পরিবার রাজনীতি ও ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত এক বছরে সাবেক সরকারঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির নামে অন্তত ২০টি সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেনের নথি জমা পড়েছে, যার মধ্যে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামও রয়েছে।
তিনি লন্ডনের রিজেন্টস পার্ক এলাকায় প্রায় ১ কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি জর্জিয়ান টাউনহাউসসহ অন্তত চারটি সম্পত্তি বিক্রি বা মর্টগেজের আবেদন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা প্রায় ১৭ কোটি পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করে। এই সম্পদগুলোর উৎস যাচাই এখনও চলমান এবং বেশিরভাগ সম্পত্তি লন্ডনের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বলে জানা গেছে।







