Home International লিবারেল ও ন্যাশনালস দলে নতুন নেতৃত্বের শুরু

লিবারেল ও ন্যাশনালস দলে নতুন নেতৃত্বের শুরু

কোয়ালিশনের নেতৃত্বে বদল ঘটেছে। লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে পিটার ডাটন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর ন্যাশনালস-এর নতুন দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডেভিড লিটলপ্রাউড। দু’টি দলই নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের ক্ষতি থেকে বের হয়ে আসায় সচেষ্ট।

অন্য আর সব কিছুর চেয়ে নারী ভোটারদের আস্থা ফিরে পাওয়াটা এই মুহুর্তে তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে।

এই নির্বাচনে কোয়ালিশনে থাকা দল দুটি নারীদের সমর্থন হারিয়েছে ব্যাপক।  সেই সাথে উলুরু স্টেটমেন্টে প্রস্তাবিত ইনডিজেনাস ভয়েস টু পার্লামেন্ট-কে তারা সমর্থন করবে কিনা সেই প্রশ্নের সামনেও পড়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে যে পদের জন্যে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে সরিয়ে দেয়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, অবশেষে লিবারেল দলনেতার সেই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে পিটার ডাটন দলে নতুন যুগের সূচনা করলেন।

পিটার ডাটনকে দল পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তিনি সরকারকেও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবেন বলে নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

দলের ডেপুটি লিডার সুজান লি আশা করছেন, আগামী নির্বাচনে দলটি নারীদের সমর্থন আবার ফিরে পাবে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে যে, নারী ভোটারদের ভেতর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছিল অনেক।

আর দলটি তথাকথিত ‘টীল ইন্ডিপেন্ডেন্ট’দের কাছেও বেশ কয়েকটি আসনে পরাজয় বরণ করেছে। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন করেছে ‘ক্লাইমেট ২০০’ নামের একটি গ্রুপ- যারা মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, জাতীয় ইন্টেগ্রিটি কমিশন ও জেন্ডার ইকুয়ালিটি নিয়ে প্রচার চালিয়েছে।

একসময়ে তাঁর কট্টরপন্থী রাজনীতি অনেক ভোটারকেই দূরে ঠেলে দিলেও এখন পিটার ডাটন আশা করছেন, অস্ট্রেলীয়রা এখন তাঁর ব্যক্তিত্বের পুরোটাই দেখতে পাবে।

এই প্রাক্তন ডিফেন্স, হোম এফেয়ার্স ও ইমিগ্রেশান মিনিস্টার অতীতে নানা বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন।

২০০৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের স্টোলেন জেনারেশনের ইনডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ানদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার ভাষণটি পিটার ডাটন বয়কট করেছিলেন। তবে এখন তিনি এ ব্যাপারে তাঁর ভুল স্বীকার করেন।

লেবার দল ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আগামী বছরের মধ্যেই একটা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে একজন ইনডিজেনাস ভয়েস টু পার্লামেন্ট সন্নিবেশিত করতে চায়।

এটি উলুরু স্টেটমেন্ট ফ্রম দি হার্ট-এর একটা অংশ। যেটি হচ্ছে মূলত ২০১৫ সালে ইনডিজেনাসদের স্বীকৃতি দেয়ার উদ্দেশ্যে ফার্স্ট নেশানস অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে করা একটি চুক্তি।

পিটার ডাটন এ বিষয়ে আলোচনার সকল দরজা খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে ন্যাশনালস দল নিশ্চিত করেছে যে প্রাক্তন নেতা বার্নাবি জয়েস ও ব্যাকবেঞ্চার ড্যারেন চেস্টারকে হারিয়ে ডেভিড লিটলপ্রাউডই এখন তাদের বর্তমান দলনেতা।

প্রায় দুই ঘন্টা ধরে ভোটের পরে সিনেটর পেরিন ডেভি দলটির ডেপুটি লিডার নির্বাচিত হন। ডেভিড লিটলপ্রাউডও দলে নারীদের অংশগ্রহণের ওপরে বিশেষ জোর দিয়েছেন।

যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে ন্যাশনালস দল উলুরু স্টেটমেন্ট ফ্রম দ্য হার্টকে সমর্থন করবে কিনা- ডেভিড লিটলপ্রাউড তখন কান্ট্রি লিবারেল পার্টির ইনডিজেনাস সিনেটর জাসিন্টা প্রাইসের কথা উল্লেখ করেন।  

তবে উল্লেখ্য যে, জাসিন্টা প্রাইস এর আগে এই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

এর মানে হচ্ছে, এই প্রস্তাব পাস করার জন্যে লেবার দলের সম্ভবত ক্রসবেঞ্চের সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে।

আগামীকাল বুধবার নতুন মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ করাবে লেবার সরকার। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here