গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে সহিংসতার পর আবারও প্রমাণিত হয়েছে—সংকটে জনগণের ভরসার নাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান (APC)-এ করে নিরাপদে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন। এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ব্যবহার করেন।
গণআন্দোলনের ক্রান্তিকালে বারবার সহিংসতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সেনাবাহিনী হয়ে উঠেছে জাতীয় আস্থার প্রতীক। গত বছর ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে আনসার হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও ঢাকার সিএমএইচ-এ ভর্তি নিশ্চিত করা ছিল আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যদিও এর মাঝেই কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি সেনাবাহিনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের পুরোনো মন্তব্য সেই বিতর্কের উদাহরণ। সেনাবাহিনী এসব বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দেখালেও, সেনাসদরের পক্ষ থেকে “হাস্যকর ও অপরিপক্ব” মন্তব্য বলেই প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে জানা যায়।
সেনাবাহিনী বরাবরই বলছে, তারা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চায় না, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিচল থাকতে চায়।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সেনাবাহিনী এই সংকটকালে জাতির পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনা এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে—যখন চারপাশে অনিশ্চয়তা, তখন মানুষের আস্থা সেনাবাহিনীতেই।







