Home International সব বিদেশি সেনাকেই আফগানিস্তান ছাড়তে হবে: তালেবান

সব বিদেশি সেনাকেই আফগানিস্তান ছাড়তে হবে: তালেবান

62
0

সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সময়ের পর আফগানিস্তানে কোনও বিদেশি সেনা থেকে গেলে তাদের দখলদার হিসেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। সেপ্টেম্বরের পর কূটনৈতিক মিশন এবং কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুরক্ষায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা থাকতে পারে বলে জানা যাওয়ার পর এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব জানিয়েছে ন্যাটো বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া গোষ্ঠী তালেবান।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান হতে যাচ্ছে। তবে তালেবান আরও বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলায় দেশটিতে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আফগান বাহিনী একাই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কাবুলের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে কাতারে আফগান সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কার্যালয়ে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালেবান বলছে, সেনা প্রত্যাহার হয়ে গেলে আফগানিস্তানে কোনও বিদেশি সেনা থাকতে পারবে না-কোনও সামরিক কন্ট্রাক্টরও নয়। তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেন, ‘দোহা চুক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে তারা যদি তাদের বাহিনী ছেড়ে যায় তাহলে কিভাবে সবকিছু আগাবে তাহলে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের নেতৃত্ব। আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাবো আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের নেতৃত্ব।’

তালেবান মুখপাত্র বলেন কূটনীতিক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং বিদেশি বেসামরিক মানুযষের ওপর হামলা চালাবে না তালেবান আর সেকারণে তাদের সুরক্ষার কোনও প্রয়োজন পড়বে না। সুহাইল শাহিন বলেন, ‘আমরা বিদেশি সামরিক বাহিনীর বিরোধী, কূটনীতিক, এনজিও এবং তাদের কর্মী ও কার্যক্রম এবং দূতাবাসের কার্যক্রমের বিরোধী নই- এগুলো আমাদের জনগণের জন্যই প্রয়োজন। আমরা তাদের জন্য কোনও হুমকি হবো না।’

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি বাগরাম থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়াকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দেন সুহাইল শাহিন।

তালেবানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আল কায়েদা বা অন্য কোনও উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে ফিরে আসতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here