সরকারের চলতি মেয়াদেই গ্রেনেড হামলার রায় কার্যকর হবে : ওবায়দুল কাদের

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সরকারের চলতি মেয়াদেই হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক আলোচনা সভায় এ এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস বড় নির্মম। ইনশাআল্লাহ শেখ হাসিনা সরকারের এই মেয়াদে বিচারকাজ শেষ করে পঁচাত্তরের খুনিদের মতো ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় কার্যকর করা হবে। যারা বিদেশে আছে, বিশেষ করে তারেক রহমানসহ সেই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’

এ সময় ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘এই জনপদ বারবার ফিরে আসে হারানোর বেদনা নিয়ে। বারবার এখানে আগস্ট আসে বেদনার নীল রং ধারণ করে। সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা) মঞ্চ থেকে নামার প্রস্তুতির সময় শুরু হলো একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ। স্প্লিন্টারের আঘাতে রক্তস্রোতের মধ্যে কাতরাচ্ছিল শত শত নেতাকর্মী। আহত নেতাকর্মীদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে পুলিশ সাহায্যের পরিবর্তে লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নেত্রীর গাড়ি গেলে সেটা লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সেদিন হেসেছে খুনি মোশতাকের উত্তরসূরি হাওয়া ভবনের যুবরাজসহ ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা। সেদিন তাদের টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা, টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গেছেন শেখ হাসিনা।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে সবই করেছিল তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার। তদন্তকাজে সহযোগিতা করেনি, আসতে দেওয়া হয়নি এফবিআইকে। এক সদস্যের তদন্ত কমিশন, এই কমিশন হাস্যকরভাবে পার্শ্ববর্তী দেশকে দায়ী করে বিচারকাজ শেষ করে। এভাবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রহসন শুরু করে।’

এর আগে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ ছাড়া যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Add Comment