ঢাকা-৮ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী হলফনামায় ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন। সাবেক মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেছেন, তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যার বড় অংশ এসেছে বাড়িভাড়া, ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে। যদিও পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে, তবে ব্যবসা থেকে কোনো আয়ের তথ্য দেননি তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, আবাসন খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, এফডিআর ও ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে এসেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে অর্জিত হয়েছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ হল ঢাকা ব্যাংকে বিনিয়োগ করা ৫১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার কাছে ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে এবং ৩টি অস্ত্র কেনায় খরচ হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন স্থাপনা, যার মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ১০৬ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক ভবন, ২ হাজার ৯৩০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (যার সাথে দুটি গাড়ি পার্কিং সুবিধা রয়েছে), এবং ৮ হাজার ৩০ বর্গফুটের একটি ফ্লোর যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তিনি আরও পাঁচটি ফ্ল্যাটের উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর মোট আয়তন ৮ হাজার ৬০৪ বর্গফুট, তবে এসবের অর্জনের সময়কাল বা মূল্য নির্দিষ্ট করা হয়নি।
সবশেষ করবর্ষে তিনি ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার কর রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের নামে রয়েছে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারেই রয়েছে ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিনিয়োগ। এছাড়া, তার নামে রয়েছে ২২ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতু। সর্বশেষ করবর্ষে তিনি ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
১৯৫১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী মির্জা আব্বাস শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের তথ্য দিয়েছেন। হলফনামায় তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।







