অস্ট্রেলিয়ায় বিধিনিষেধ শিথিল

অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস বিধিনিষেধ শিথিল করার তিন পর্যায় ঘোষণা করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। আজ শনিবার  সকালে জাতীয় মন্ত্রিভার বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন দেশটির  প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোর ওপর নির্ভর করবে—কখন তারা এই  বিধিনিষেধ শিথিলতা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিন পর্যায়ের বিধিনিষেধ শিথিল করার এ ঘোষণার প্রথম পর্যায়ে খুলে যাচ্ছে দেশটির রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও দোকানপাট। একটি বাড়িতে একসঙ্গে পাঁচজন, কোনো ব্যবসা বা জনসমাগম, জানাজা বা বিয়েতে এক হতে পারবেন ১০ জন।  লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ ব্যবহার করা যাবে এবং রাজ্যের ভেতর স্থানীয় বাসিন্দারা যেতে পারবেন যেকোনো দূরত্বে। তবে সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

নিউ সাউথ ওয়েলস এই সপ্তাহে কোনো বিধিনিষেধ শিথিল করছে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রিমিয়ার গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ান। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল আন্ড্রুস বলেন,  বিধিনিষেধ শিথিল সংক্রান্ত পদক্ষেপ জানতে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ জানা যাবে রোববার। অন্যান্য রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে কুইন্সল্যান্ডে ১৬ মে, সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ১১ মে, ক্যানবেরায় ৯ মে, তাসমানিয়ায় ১৮ মে এবং নর্দান টেরিটরিতে ১৫ মে থেকে প্রথম পর্যায়ের শিথিলতা চালু হবে।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।

সর্বশেষে নিষেধাজ্ঞা তুলে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের জীবনযাত্রা আবার স্বচ্ছন্দ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে  বলে আশাবাদী দেশটির সরকার। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়নি,  তবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সংক্রমণের পরিধি।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নতুন করে সংক্রমণ হয়েছে ১৮ জনের। সংক্রমিত মানুষের মোট সংখ্যা ৬ হাজার ৯১৪ জন। এ পর্যন্ত ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৭৯ জন। দেশটিতে  এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার। হাসপাতালে ৫৬ জন ও ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)  ভর্তি ২১ জন।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কেউ এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।

Add Comment