ইরানে ফের বাড়ছে করোনা আক্রান্ত, দ্বিতীয় দফা প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা

ইরানে করোনাভাইরাসের মহামারি দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়ার শঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত এক দিনে নতুন করে প্রায় তিন হাজার আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। গত দুই মাসের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা। করোনা মহামারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে উপদ্রুত দেশ ইরান মৃতের সংখ্যা কমতে শুরু করলে গত এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন শিথিল শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।.

 

তেহরানের একটি সাবওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষা

করোনাভাইরাস লকডাউন আগেভাগে শিথিল করা হয়েছে- এমন অভিযোগ স্বীকার করতে রাজি নন ইরানের নেতারা। তাদের যুক্তি হলো নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নির্দিষ্ট কিছু প্রদেশে সীমাবদ্ধ এবং মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। গত সপ্তাহে ইরানের ৪০ হাজার মসজিদ খুলে দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ বিধিনিষেধই তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে সোমবার ইরানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, করোনা যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনা ৯০তম মিনিটেও গোল দিয়ে ফেলতে পারে যদি কোনও কর্মকর্তা ও মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা যদি পরিস্থিতি অবহেলা করি তাহলে পেছন দিকে ফিরতে হবে।’

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৯৭৯ জন। এনিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৫ জনে। গত ১ এপ্রিলের পর একদিনে দেশটিতে এটাই সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। এছাড়া গত ১ মে দেশটিতে ৮০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

দেশটিতে মৃতের সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিলের পর এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটিতে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৭৭৮ জনে।

এদিকে সোমবার গণপরিবহনে শারিরীক দূরত্বের বিধান মেনে না চলায় নিজের হতাশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি। তিনি বলেন, ‘সামান্য অবহেলা আমাদের সব সাফল্য ধ্বংস করে দিতে পারে আর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমার সুনামকে কলঙ্কে পরিণত করে দিতে পারে।’

Add Comment