সিডনিতে বাংলাদেশি উবারচালক দোষী সাব্যস্ত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি উবারচালককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের শুনানিতে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি উবারচালক নজরুল ইসলাম। আগামী জানুয়ারিতে এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। গতকাল সোমবার সিডনির ডাউনিং সেন্টার স্থানীয় আদালত এ আদেশ দেন।

৩২ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম গত বছরের ১৭ জুন উবারে করে তিনজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার সময় সিডনির এলিজাবেথ স্ট্রিটে দুর্ঘটনায় পড়েন। দিবাগত রাত তিনটার দিকে দুই রাস্তার মোড় পার হওয়ার সময় লাল বাতি দেখে গাড়ি থামিয়েছিলেন নজরুল। সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগে পেছনের আসনে থাকা যাত্রী যুক্তরাজ্যের নাগরিক স্যামুয়েল থমাস গাড়ির দরজা খুলে বাইরে নামার চেষ্টা করেন। সবুজ সংকেত দেখে নজরুল গাড়ির গতি বাড়ালে থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং অপর পাশ থেকে আসা একটি বাসের চাপায় দুর্ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গাড়ি চালানোয় অবহেলার অভিযোগে নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে স্থানীয় পুলিশ।

প্রায় এক বছর পর এ মামলার শুনানি শুরু হয় গত ৯ আগস্ট। আদালত দুর্ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ দেখে বলেছেন, নজরুল ইসলাম গাড়ির গতি বাড়ানোর পরক্ষণেই থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং একটি বাসের নিচে পিষ্ট হন। তবে নজরুলের গাড়ি ও বাস দুটোই সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়। গাড়িতে থাকা থমাসের সহযাত্রী তাঁর সহকর্মীদের একজন স্টিফেন রনিং বলেন, ‘সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার আগে দরজা খোলার শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি থমাস গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করছে। আর এর মধ্যে গাড়ি চলতে শুরু করলে আমি থামার কথা বলতে বলতেই থমাস নিচে পড়ে যায় আর একটা কিছু ফাটার শব্দ হয়।’ রনিং নিশ্চিত করেন যে থমাস নামার আগে কিছুই বলেনি। বরং তিনি শব্দ করে থামার কথা বলতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে ফেলেন চালক।

নজরুল ইসলাম তাঁর বয়ানে বলেন, ‘আমি না কোনো শব্দ পেয়েছি, না কিছু দেখেছি। আমি শুধু শুনলাম যাত্রীরা থামাও থামাও বলে চিৎকার করছে আর আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপি। সবকিছু পাঁচ মিটার জায়গার মধ্যেই ঘটে গেল। তারপর আমরা বাইরে গেলাম আর একটা মৃতদেহ দেখলাম। আমি পুলিশে ফোন করলাম।’

ডাউনিং সেন্টারের বিচারপতি ম্যারি রয়ান রায়ে বলেন, একজন চালককে যে সতর্কতা মেনে গাড়ি চালাতে হয়, নজরুল সেটি অনুসরণ করেননি। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, থমাস পেছনের দরজার খোলার পর নজরুলের গাড়িতে ৬ সেকেন্ড সতর্ক বাতি জ্বলে। এরপরও নজরুল গাড়ি চালু করে দেন, যার ফলে থমাস পড়ে যান। একজন সতর্ক চালকের জন্য এই ৬ সেকেন্ডই যথেষ্ট। তাই চালক হিসেবে যথেষ্ট সতর্ক না থাকায় নজরুলকে অভিযুক্ত করা হলো।

এদিকে নজরুল ইসলামের অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে নজরুলের আদৌ দোষ রয়েছে কি না, এমনটাই বুঝে উঠতে পারছেন না বেশির ভাগ প্রবাসী। নজরুল সুষ্ঠু বিচার পাননি বলেও দাবি করেন বেশ কয়েকজন। স্থানীয় আদালতের রায় শেষে উচ্চ আদালত থেকে নজরুলের সঠিক বিচার পাওয়ার আশার ব্যক্ত করেন কেউ কেউ।

Add Comment