মুসলিম বিশ্বকে খণ্ড খণ্ড করছে সৌদি আরব

‘দ্বিখণ্ডিত’ মুসলিম বিশ্বকে আরও এক খণ্ডে ভাগ করছে সৌদি আরব। আজন্ম শত্রু ইরান-তুরস্ক বলয় টপকাতে এবার লোহিত সাগরের পাড়ের দেশগুলোকে নিজের প্রভাব বলয়ে আনতে উঠে-পড়ে লেগেছে রিয়াদ।

মিসর, জিবুতি, সুদান, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও জর্ডান এই ছয় দেশকে নিয়ে গঠন করতে যাচ্ছে নতুন জোট। পারস্য উপসাগরের পাড়ের সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডান গাল্ফ কো-অপারেটিভ কাউন্সিল (জিসিসি) নামে আরও একটি জোটেরও নেতৃত্বে আছে সৌদি।

ইরান, ইরাক ও সিরিয়াকে বাদ দিয়ে ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৪টি মুসলিম দেশ নিয়ে সামরিক জোটও গড়ে তুলেছে। এভাবে একের পর এক জোট গঠন করে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো মুসলিম বিশ্বে আরও প্রভাব বিস্তারের খেলায় মেতেছে রিয়াদ।

বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এ চিত্র উঠে এসেছে।

খাসোগি হত্যায় বিতর্কিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতার শুরুতেই ইরান, তুরস্ক ও কাতারকে ‘শয়তানের অক্ষ’ বলে আখ্যায়িত করেন। এই মন্তব্যের মধ্যদিয়েই মূলত মুসলিম বিশ্বকে খণ্ড-বিখণ্ড করার ‘নীল নকশা’ বিশ্বের সামনে তুলে আনেন তিনি।

এরপর একের পর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে জোটের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করেন। সিরিয়া ও ইয়েমেনে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে সৌদি সামরিক জোট। এরই ধারাবাহিকতায় এবার লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের পাড়ের দেশগুলোর নজর দিয়েছে। আগে থেকেই ‘হাতের মুঠোয় থাকা’

আরব আমিরাত, কুয়েত, মিসর, জর্ডানের হাত ধরে জিবুতি, সোমালিয়া, সুদান প্রভৃতি দেশকে প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা। এ লক্ষ্যে দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে চলছে জোর আলোচনা। বুধবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদে আলোচনায় বসে নেতারা।

কৌশলগত আলোচনা এগিয়ে খুব শিগগিরই ফের কায়রোতে বসবেন দেশগুলোর একটি বিশেষজ্ঞ দল।

এদিন আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবাইয়ের বলেছেন, আরব দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন সামরিক জোট গঠনের লক্ষ্যে আমেরিকার সঙ্গে রিয়াদ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জুবাইয়ের বলেন, ‘নতুন এ সামরিক জোট উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর মতো করে গড়ে তোলা হবে এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বাইরের আগ্রাসন থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে রক্ষা করা।’

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমেরিকা এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং গঠন প্রক্রিয়া কি হবে তা নিয়ে কাজ চলছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের শীর্ষ সম্মেলনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবাইয়ের এ ঘোষণা দেন।

জুবাইয়ের বলেন, জোট গঠনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাইরের শক্তির আগ্রাসন থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা। পাশাপাশি আমেরিকা এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্য সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এ জোট গঠন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবের এ শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক বলেন, নতুন এ জোটের নাম হবে মিডলইস্ট স্ট্রেটিজিক অ্যালায়েন্স বা মেসা। ন্যাটো জোটের আদলে আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইরানবিরোধী ‘আরব ন্যাটো’ গঠনের গুঞ্জনের মধ্যে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য এলো। তবে এই জোটে লোহিত সাগরের অপর দুই দেশ ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়া থাকছে না।

Add Comment