বিজয় দিবসে অ্যাডিলেডে বহু সাংস্কৃতিক আয়োজন

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বর্ণিলভাবে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। গতকাল রোববার (১৬ ডিসেম্বর) অ্যাডিলেডের সেন্ট হেলেনস পার্কে এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বহু সাংস্কৃতিক বিজয় মেলার। ২৫টিরও বেশি দেশের হাজারের বেশি দর্শক অংশগ্রহণ করেন দিনব্যাপী এই বিজয় মেলায়। অনুষ্ঠানে ১০টি দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরে বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তাদের অংশগ্রহণ ভিন্ন মাত্রার আনন্দ যোগ করে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ও লাফিন, মেয়র মিশেল কক্সন, মেয়র মিশেল হিউইস্টন, ফেডারেল সাংসদ স্টিভ জর্জিয়ানা, রাজ্য বিরোধী দলের নেতা পিটার মালিনৌকাস ও রাজ্য মন্ত্রী জিং লি। বিজয় দিবসে বহুজাতিক সংস্কৃতির এই মিলনমেলার আয়োজন করে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (সাবকা)।

প্রথম পর্ব শুরু হয় বুলগেরিয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠনের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর ভারতের পাঞ্জাবের বিশেষ মার্শাল আর্ট কলা প্রদর্শন করে ভারতীয় শিল্পীগোষ্ঠী। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করে চীনা শিল্পীরা। শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বড়দের লোকজ নৃত্য পরিবেশন করে রাজ্যের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এরপর ছিল ডা. গীতা নাট্যলয়ের শাস্ত্রীয় নৃত্য। অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ডিএমসি ব্যান্ড দল। প্রথম পর্বের শেষাংশে নৃত্য পরিবেশন করে তামিল ও নেপালের দল।

অনুষ্ঠানে শিল্পী সামিনা চৌধুরীকে বিজয় দিবস সম্মাননা প্রদান করা হয়

অনুষ্ঠানে শিল্পী সামিনা চৌধুরীকে বিজয় দিবস সম্মাননা প্রদান করা হয়দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের এ পর্বে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মেজর জেনারেল ভিক্রম মদনকে বিজয় দিবস সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর ছিল অ্যাডিলেডে বসবাসরত বাংলাদেশি বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনা। শিশু-কিশোর ও বড়দের নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। এ পর্বের শেষে ছিল সামিনা চৌধুরীর একক সংগীত পরিবেশনা।

বহু সাংস্কৃতিক বিজয় মেলা উদ্‌যাপনের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাহবুব সিরাজ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের এই বিজয় যেমন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল, তেমনটাই হলো এই বিজয় দিবস উদ্‌যাপনেও। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে উদ্‌যাপনের এই আসরে শামিল হয়েছে। তারা কাছ থেকে দেখেছে বাংলাদেশিদের বিজয় দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে বাংলার ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াসই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

Add Comment