ব্রিসবেনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

মাতৃভূমির প্রতি বাঙালির রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা। সেই প্রিয় দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন প্রবাসীরা তাঁদের হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন প্রবাসে থেকেও। এরই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের রাজধানী ব্রিসবেনে আমরা কজন-এর আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। গত শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) ব্রিসবেনের ফরেস্ট লেক ইউনাইটিং চার্চের অডিটোরিয়ামে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের সঞ্চালক আঁচল শিকদার আগত সম্মানিত সুধীমণ্ডলীদের অভিবাদন জানিয়ে স্মরণসভার সূচনা করেন। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয় সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মহিউদ্দিন হায়দারের সন্তান শাহেদ সদরুদ্দিন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল পানুর সন্তান ফরহাদ কামাল, ড. শামিম সিদ্দিকি (মুহাম্মদ জে এ সিদ্দিকি), ড. রেজা মোনেম, ড. শামসুল আরেফিন ভূঁইয়া, মাহমুদুল আলম খান ও ড. রাফিউল আলম।

আলোচকদের সঙ্গে আয়োজকেরা

আলোচকদের সঙ্গে আয়োজকেরাশাহেদ সদরুদ্দিন বাবা ছাড়া নিজের ও অন্য শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের জীবনে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।

ফরহাদ কামাল বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তাদের সত্যকে জানতে হবে এবং চিন্তা ও চেতনায় দেশপ্রেমকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ধারণ করতে হবে। পাকিস্তানি ঘাতক হানাদারদের দোসরদের প্রবাসেও চিহ্নিত করতে হবে। শহীদদের অবমাননার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হবে।

এরপর আমরা কজনের প্রযোজনা ও ফরহাদ কামালের সম্পাদনায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ২০ মিনিটের একটি হৃদয়স্পর্শী প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় নতুন প্রজন্মের তরুণ ও সম্মানিত অতিথিবৃন্দের জন্য।

দেশাত্মবোধক গান ও গণসংগীত পরিবেশনা

দেশাত্মবোধক গান ও গণসংগীত পরিবেশনাপ্রামাণ্যচিত্রের ভিডিও লিংক: <https://youtu.be/9Yr8WdkO0Og>

অনুষ্ঠানে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ছোট্ট শিশু আবরার ও লাবিব কবিতা আবৃত্তি করে। রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন মমতাজ শিরিন। দেশাত্মবোধক গান ও গণসংগীত পরিবেশন করেন জ্যোতিষ দাস, রহমান মোহাম্মদ মুন্না ও সুচরিতা কর্মকার।

ছোট্ট শিশু আবরারের  কবিতা আবৃত্তি

ছোট্ট শিশু আবরারের কবিতা আবৃত্তিআয়োজন ছিল পোস্টার প্রদর্শনী। রায়েরবাজার বধ্যভূমি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বধ্যভূমি এবং ১৯৭১ সালের শহীদ ও গণহত্যার বিভিন্ন ছবি নিয়ে এই পোস্টার প্রদর্শনী উপস্থিত সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। তবে পাকিস্তানিদের বাঙালি সহযোগীদের ছবি দিয়ে ‘থুতু বিন’ সবার মনের আবেগের কিছুটা প্রশমন করে!

ছোট্ট শিশু লাবিবের কবিতা আবৃত্তি

ছোট্ট শিশু লাবিবের কবিতা আবৃত্তিসভার শেষে ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন স্মৃতিচারণ করে সভাপতির বক্তব্য দেন। লাইলাক শহীদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক আমরা কজনের পক্ষ থেকে।

পাকিস্তানিদের বাঙালি সহযোগীদের ছবি দিয়ে থুতু বিন

পাকিস্তানিদের বাঙালি সহযোগীদের ছবি দিয়ে থুতু বিন১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিল আল বদর বাহিনীর চৌধুরী মঈনউদ্দিন (অপারেশন ইনচার্জ) ও আশরাফুজ্জামান খান (প্রধান জল্লাদ)। তারা দুজন বর্তমানে পালিয়ে আছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে ও বিদেশে অপরাধীদের সাজা কার্যকর করার জন্য প্রবাসীদেরও সোচ্চার হতে হবে। আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য প্রবাসে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রবাসে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত সাজা কার্যকর করার জন্য জনমত তৈরি করতে সহযোগিতা করা।

Add Comment