নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার কঠোর : প্রতিমন্ত্রী

ম‌হিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফ‌জিলাতুন নেসা ইন্দিরা ব‌লে‌ছেন,‌ ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আমাদের সরকার নারী নির্যাতন বন্ধ, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী ইউএন উইমেন প্রকাশিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, বিশ্বে ৩৫ শতাংশ নারী বা প্রায় প্রতি তিনজনে একজন নারী তাঁর জীবন পরিক্রমায় শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ঘটে আপনজনের দ্বারা। সহিংসতার শিকার ৪০ শতাংশের কম নারী সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশ্বে মোট মানবপাচারের ৭২ শতাংশ নারী ও শিশু।

‘প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। ইউরোপে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নারী সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছে। তাই নারীর প্রতি সংঘটিত সব ধরনের নির্যাতন ও অপরাধ নির্মূল করার জন্য বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’, যোগ করেন ফ‌জিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো ও বাংলাদেশে নিযুক্ত কমনওয়েলথ উন্নয়ন পরিচালক জুডিথ হারবার্টসন। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টি-সেক্টরাল প্রোগ্রামের পরিচালক দেন ড. আবুল হোসেন।

সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করা যাচ্ছে। নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন বন্ধ করতে সরকার প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করেছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রমের সঙ্গে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এই ইস্যুতে জাতিসংঘ কাজ করে যাবে।

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘কমলা রঙের বিশ্বে নারী, বাধার পথ দেবেই পাড়ি।’

আজকের আলোচনায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, অ্যাকশন এইডের নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম প্রমুখ।

Add Comment