বিশ্বকাপে অনন্য অর্জন ডাকছে সাকিবকে

বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছে, হচ্ছে, আরও হবে। কিন্তু ডেনিস অ্যামিসকে কেউ টপকাতে পারবে না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান বলে কথা! তেমনি মহিন্দর অমরনাথকে পেছনে ফেলাও অসম্ভব। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম উইকেটশিকারি তিনিই। আসলে ‘প্রথম’ হওয়ার ব্যাপারটাই অন্যরকম। ক্রিকেটে কত রকম কীর্তিই তো হয় আর সেই কীর্তিগুলোর ‘প্রথম’ কীর্তিমানের জন্য ইতিহাসে সব সময়ই জায়গা আলাদা। তেমনই এক ‘আলাদা’ জায়গা ডাকছে সাকিব আল হাসানকে।

অদৃশ্য জায়গা? তা ছাড়া আর কী! বিশ্বকাপে আলাদা আলাদা করে হাজার রান কিংবা ন্যূনতম ৫০ উইকেটের মাইলফলক আছে কিন্তু যদি বলা হয় ন্যূনতম ১ হাজার রানের সঙ্গে ৩০ উইকেট কেউ পেয়েছেন? পাননি। অলরাউন্ডারদের ‘গ্রেটনেস’ মাপতে হিসেবটা এভাবেই কষতে হয়। বিশ্বকাপে এমন এক হিসেবেই সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে সবার ওপরে উঠতে যাচ্ছেন সাকিব।

যাচ্ছেন—কথাটা এখনই জোর দিয়ে বলা যায়। কথাটা এভাবে বলতে বাধ্য করছেন সাকিব নিজেই। বিশ্বকাপে তাঁর অবিশ্বাস্য ফর্মের জন্য। টানা দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে দুটি ফিফটি নিয়ে সাকিব এরই মধ্যে এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেউ দলের বাকি ৪ ম্যাচে মাত্র ৭৬টি রান করতে পারবেন না! আর সাকিবের মতো কারও এই ৪ ম্যাচ থেকে ২ উইকেট তুলে নিতে না পারাও তো অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এ মাইলফলক গড়তে এ কটি রান আর উইকেট পেলেই চলবে সাকিবের।

মাইলফলকটি বলার আগে সাকিব আপাতত কোথায় দাঁড়িয়ে সেটি বলা যাক—বিশ্বকাপের ইতিহাসে ন্যূনতম ৯০০ রানের সঙ্গে ২৫ উইকেট নিতে পেরেছেন মাত্র তিনজন ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ওয়াহ, শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়া ও সাকিব। এর মধ্যে প্রথম দুজন তো বেশ আগেই সাবেক। তিনটি বিশ্বকাপে (১৯৮৭, ১৯৯২ ও ১৯৯৯) মোট ৩৩ ম্যাচ খেলে ৯৭৮ রানের সঙ্গে ২৭ উইকেট পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক ও মিডিয়াম পেস করে ভালোই খ্যাতি কুড়োনো ওয়াহ। জয়াসুরিয়া খেলেছেন পাঁচটি (১৯৯২-২০০৭) বিশ্বকাপে ৩৮ ম্যাচ। ১১৬৫ রানে পাশাপাশি বাঁ হাতি স্পিনে পেয়েছেন ২৭ উইকেট। আর সাকিব (২০০৭-২০১৯) এ পর্যন্ত ২৫ ম্যাচ খেলেছে ২৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান করেছেন মোট ৯২৪। মাইলফলকটি কি এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ন্যূনতম ১০০০ রানের সঙ্গে ৩০ উইকেট নিতে পারেনি কোনো ক্রিকেটারই। এ মাইলফলকটি গড়তে সাকিবের চাই ৭৬ রান ও ২টি উইকেট। যে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কে জানে, পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই হয়ে যেতে পারে! কাল নটিংহামে অ্যারন ফিঞ্চের দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

Add Comment